সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কনস্যুলেটের চিঠিতে উঠে এলো যেসব তথ্য
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি, চিঠিতে উল্লেখ নজরুল ও সুইটির আটকের তথ্য।
- আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০১:৫৭:১২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০১:৫৭:১২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের একটি চিঠিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
১৮ অক্টোবর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারে কনস্যুলেট।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে তাঁরা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছেন। তবে তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটকে সরবরাহ করেনি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে কনস্যুলেট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া একটি তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। তবে ওই তালিকায় তাঁদের সাজা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না।
তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ও সুইটি সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে।
কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে সৌদি আরবে এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির তাদের জানা নেই।
এ ছাড়া সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাজা এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।