মধ্য এশিয়ায় রুবিওকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, গুরুত্ব বাণিজ্য ও নিরাপত্তায়
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে ৩০০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ; মানবাধিকার ও জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনায় অনুপস্থিত
- আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ১০:২৮:০৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ১০:২৮:০৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক সংকটের মধ্যে মধ্য এশিয়া সফরে গিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। উজবেকিস্তান ও ভারত সফরের অংশ হিসেবে ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটন ছাড়েন তিনি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ থাকলেও, সাম্প্রতিক উদ্যোগে মানবাধিকার ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর চেয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে বিশ্লেষণ করেছে দ্য ডিপ্লোম্যাট।
সফরের আগে সাংবাদিকেরা রুবিওর কাছে জানতে চান, বিশ্বজুড়ে নানা সংকট চলার সময় তিনি কেন উজবেকিস্তান সফর করছেন। জবাবে তিনি বলেন, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই সময়টি সুবিধাজনক ছিল। তিনি অঞ্চলটির সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বললেও এর তাৎপর্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও সফরের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানায়, প্রতিটি সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়াই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নয়; বরং প্রেসিডেন্টের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া তাঁর কাজ। দপ্তরটির বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার অনেকটাই জনসমক্ষে আসে না।
ইরান, গাজা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে রুবিওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে তাঁর সফর তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অঞ্চলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্রদের মতো ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক নীতির প্রতি অসন্তোষও তেমন দৃশ্যমান নয়। কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু উদ্যোগ, বিশেষ করে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রচলিত মিত্র দেশ অংশ নিতে অনাগ্রহী ছিল।
উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা মধ্য এশিয়াকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দেননি। তবে এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার পুরোপুরি মিল নেই। কারণ, গত এক দশকে মধ্য এশিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ধারাবাহিকতা ছিল।
এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ‘সি৫+১’ (C5+1) কাঠামোকে। ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্ম চালু হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে একসঙ্গে আলোচনা করে। গত বছর কাঠামোটির দশম বার্ষিকী উপলক্ষে রুবিও পাঁচটি দেশ সফরের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবারের সফরে তিনি উজবেকিস্তানেই যান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কিছু পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, মধ্য এশিয়ার কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগের মতো প্রকাশ্যে কথা বলছেন না। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগনির্ভর কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকটি সামনে এলেও সহযোগিতার পরিসর সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রুবিওর সফরে বড় আকারের মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও অংশ নেয়। প্রথমে ১০০টির বেশি মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা জানানো হলেও পরে তা ২০০-এর বেশি ব্যবসায়ী নেতায় উন্নীত হয়। সমরকন্দে রুবিও জানান, প্রায় ৩০০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই সফরে যুক্ত হয়েছেন। তবে প্রতিনিধিদলে কোন কোন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সে বিষয়ে দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রশ্নের জবাব দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিনিধিদলে বোয়িং, সিটিব্যাংক ও ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ কৌশলগত খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। মধ্য এশিয়াবিষয়ক সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল রোজেনব্লাম মনে করেন, এত বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সফরে চুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দূরত্ব, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং উপযুক্ত অংশীদার খুঁজে পাওয়ার মতো বিনিয়োগসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে।
১৯ অক্টোবর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি ‘সি৫+১: ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’-এ আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা বলা হয়। এতে বাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, অনাবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে ট্রান্স-কাস্পিয়ান বাণিজ্যপথের কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে নিবন্ধটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যৌথ বিবৃতিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো স্থান পায়নি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খনিজ উত্তোলননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে আগ্রহী হলেও এসব খাতে প্রচুর পানি ও জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ফলে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।