মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ, তেহরানে বৈঠকে ইরান-সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমন, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা; বৈঠকে বড় কোনো চুক্তি ঘোষণা হয়নি।
- আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ১১:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ১১:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তেহরানে বৈঠকে বসেছে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার তেহরানে বৈঠক শেষে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালেদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন মহসেন রেজাই ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠক-পরবর্তী পর্যায়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
আলোচনায় দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজা এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
তবে বৈঠক থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা প্যাক্টে’ ইরান স্বাক্ষর করেনি। অতীতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকায় চার দেশের প্রতিনিধিদের একই টেবিলে বসাকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান আবার চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানের বৈঠক আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।