সরকারি বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিলে বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি
৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে সরানোর নির্দেশ, অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৩:২২:৫১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৩:২২:৫১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে সেখানে বসবাস না করে অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসায় থাকা সব ভাড়াটে ও সাবলেট গ্রহীতাকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাসায় বসবাস নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে ভাড়াটে কিংবা সাবলেট গ্রহীতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিল করা হবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ বিষয়ে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপ্তদের জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু সরকারি চাকরিজীবী তাঁদের নামে বরাদ্দ করা বাসার এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী।
বিধিমালা অনুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসার সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক কোনোভাবেই ভাড়া বা সাবলেট দেওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে যারা এ নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তাঁদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেট গ্রহীতাদের সরিয়ে দিয়ে নিজেরা বাসায় বসবাস শুরু করতে হবে।
নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেট গ্রহীতা পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালার ১৪(৩) বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে আবাসন পরিদপ্তর।
পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসনের ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের কিছু বরাদ্দপ্রাপক সেখানে বসবাস না করে অন্যদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস ও ৭৯টি বাংলো রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত শ্রেণিভিত্তিক বাসা ও ফ্ল্যাট রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।