চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৈরি করছে নিরাপত্তা চাপ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে চীন, মন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক ধরনের চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস। তার দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে প্রচলিত সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে চীন। তবে এ ধরনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা কৌশলগত আশ্বাস দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিচার্ড মার্লেস। তিনি বলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
মার্লেসের মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনের শাসন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। বিরোধপূর্ণ জলসীমায় চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন দ্বীপে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। গত জুলাইয়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর ঘটনায় চীনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দেশটি ওই পরীক্ষাকে উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীলতাসৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করে।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষাপ্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দেশের এই অনানুষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোট ‘স্কোয়াড’ নামে পরিচিত। বৈঠকে প্রতিরক্ষা নীতির সমন্বয়, যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান মার্লেস।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক চাপ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে চারটি দেশই অবগত। এ সময়ে বন্ধু ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে ফিলিপাইন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং জিয়াওগাং অভিযোগ করেন, ফিলিপাইনের কয়েকজন রাজনীতিক বৈঠকে চীনের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তবে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন বৈঠকে অংশ নেননি। তার পরিবর্তে দেশটির একজন প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেকে পাঠানো হয়।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো চীনের অভিযোগের সরাসরি জবাব না দিলেও বলেন, নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ চীনকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে মার্লেসের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।