এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ল আরও ৩ বছর, সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন; ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ।
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। এ সিদ্ধান্তকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিশন জানায়, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে স্থায়ী মিশন।
কেন সময় বাড়ানোর আবেদন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ আবেদন করা হয়েছিল।
আবেদনের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সরকার তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করে। এতে প্রতিবছরের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
বর্ধিত সময়ে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশ
বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) সুপারিশ করে। পরে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়। সর্বশেষ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত সময় কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এখন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে না; এটি বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।