জাপানে বছরে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি সরকার
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৩:৩৬:০৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৩:৩৬:০৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে টোকিও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, সম্প্রতি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি কিতামুরা তোশিহিরো এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী নেওয়ার খবর সঠিক নয়। গত ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিবরণ দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে জাপানে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী, দক্ষ কর্মী ও বিভিন্ন পেশার জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উঠে আসে।
তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা এবং জাপান সরকারের নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী গ্রহণে সম্মতি দেওয়ার বিষয় দুটি আলাদা। টোকিওর বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৭ অক্টোবরের শীর্ষ বৈঠকের বিবরণেও বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই। সেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের মাধ্যমে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান। এর ফলে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে জাপানে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ (এসএসডব্লিউ) ও ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন’ কর্মসূচির সুযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়। তবে ভাষাগত দক্ষতা ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত থাকায় জাপানে কর্মী যাওয়ার প্রক্রিয়া বেশ নিয়ন্ত্রিত। এখন পর্যন্ত বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো চুক্তি বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।