৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৭০ পৌরসভায় কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সরকারি অর্থায়ন ও সুইজারল্যান্ডের অনুদানে ২০২৬–২০৩০ মেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতি, ডিজিটাল সেবা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিকল্পনা
- আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০২:৫৪:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৩:০৩:০০ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৪০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
দেশের আট বিভাগের ৭০টি পৌরসভায় স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ, উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। ‘প্রবৃদ্ধি: নির্বাচিত পৌরসভায় স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তবে এ বিনিয়োগের মাধ্যমে কতটা স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় মানুষের আয় কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ফলাফল মূল্যায়নের ওপর।
প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন ২৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। বাকি ৪৫ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা সুইজারল্যান্ডের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সুইস ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য নির্বাচিত পৌরসভাগুলোতে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাঠামো গড়ে তোলা, নাগরিক সেবার মান বাড়ানো, রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা জোরদার এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা। পাশাপাশি নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যয় বিভাজন অনুযায়ী, ৭০টি পৌরসভায় স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে অনুদান হিসেবে ১৯৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ডিজিটাল সেবা চালু করতে ৩০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণে দুই কোটি ৯৫ লাখ এবং গবেষণায় ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পৌরসভাগুলোতে ডিজিটাল ওয়ানস্টপ সেবা কেন্দ্র ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নাগরিকদের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সেবা পাওয়া সহজ হওয়ার কথা। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, এর আগে ‘প্রবৃদ্ধি: স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে সাতটি পৌরসভায় ‘বাংলা এলইডি মডেল’ চালু করা হয়েছিল। ওই পর্যায়ে প্রায় ৩৮ হাজার উদ্যোক্তা এবং ৫০ হাজার সেবাগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৪৯ হাজার ১১১টি নতুন কর্মদিবস সৃষ্টি, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোর অতিরিক্ত প্রায় আট কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার প্রকল্পের আওতা সাতটি থেকে বাড়িয়ে ৭০টি পৌরসভায় নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কর্মদিবস সৃষ্টি এবং স্থায়ী কর্মসংস্থান এক বিষয় নয়। ফলে নতুন প্রকল্পের সাফল্য মূল্যায়নে কতজন দীর্ঘমেয়াদি কাজ পেয়েছেন, কতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা কতটা বজায় রয়েছে, তা পরিমাপ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রকল্পের জন্য পৌরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জনসংখ্যা, সেবার চাহিদা, দারিদ্র্য ও উন্নয়ন ঘাটতি, স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা, ডিজিটাল সেবা ও ই-পেমেন্ট চালুর প্রস্তুতি, যোগাযোগব্যবস্থা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভূমিকা এবং জলবায়ু ও ভৌগোলিক ঝুঁকিও বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে শুধু ডিজিটাল সেবা চালু বা অনুদান দিলেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে না। উদ্যোক্তাদের পুঁজি, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, পণ্য বিপণন এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। পৌরসভাভেদে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আলাদা হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কর নির্ধারণ, রাজস্ব আদায় ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর সুফলও সীমিত হতে পারে।
গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠন করে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমেদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচিত পৌরসভাগুলোতে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। পাশাপাশি রাজস্ব ও সেবাদানের সক্ষমতা বাড়বে এবং ডিজিটাল সেবা, উদ্যোক্তা সহায়তা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।