পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বাংলাদেশকে পাশে চায় ফিলিপাইন
বিটিটিএফ ২০২৬-এর উদ্বোধনে দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক পর্যটন অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৯:১২:২১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৯:১২:২১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফিলিপাইন। ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কইনলেট বলেছেন, পর্যটন খাত দুই দেশের বন্ধুত্ব জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন খাতে আরও সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
নিনা পাদিলা কইনলেট বলেন, পর্যটনের মাধ্যমে একটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে সহায়তা করে।
ফিলিপাইনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি পর্যটকদের দেশটি ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। তিনি দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ এবং মানুষের আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেন।
পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ১০ শতাংশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ খাতের অবদান রয়েছে। প্রতি ১০টি কর্মসংস্থানের অন্তত একটির সঙ্গে পর্যটন খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রসঙ্গে কইনলেট বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় টেকসই পর্যটনচর্চা জরুরি। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সংরক্ষণেও পর্যটন ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বিটিটিএফের ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এ মেলা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।