হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোয় তাহসিফকে হত্যার সন্দেহ
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, হত্যার কারণ জানতে দীপের চার দিনের রিমান্ড
- আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:১৯:২৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:১৯:২৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৩ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ঘটনায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন তাহসিফ। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে রাষ্ট্রপক্ষ। হত্যার পেছনের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, দীপের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, নিহত তাহসিফের সঙ্গে দীপের ছয় বছরের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল এবং শুরু থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। তাহসিফের পরিবারও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেনি বলে দাবি করেন তাঁরা।
দীপের আইনজীবী আরও বলেন, আসামি গণমাধ্যমের বিচারের শিকার হচ্ছেন। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তাঁরা। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, দীপের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট এবং অপরাধীকে শাস্তি থেকে রক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ২০৩, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগে দীপ দাবি করেছিলেন, তাহসিফের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি দীপ স্বীকার করেছেন। পরে পিবিআই কর্মকর্তারা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও প্রচারের কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের সন্দেহ ও তদন্তের একটি দিক হিসেবে রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।