বাচিকশিল্প চর্চায় গুরুত্বারোপ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তি সংসদের বরণ-বিদায়
শুদ্ধ উচ্চারণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর জোর দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো চবি আবৃত্তি সংসদের প্রশিক্ষণার্থীদের সমাবর্তন এবং নতুন কর্মশালার উদ্বোধন
- আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:৫২:৪৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:৫৪:২০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
ছবি: প্রতিনিধি
বাচিকশিল্পের বিকাশ, শুদ্ধ উচ্চারণচর্চা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে বরণ, বিদায় ও আবৃত্তি উৎসব। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের (চবিআস) আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের সর্ববৃহৎ ‘প্রমিত উচ্চারণ, উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালা-২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের সমাবর্তন, নতুন সদস্যদের বরণ এবং ২০২৬ সালের কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক মাঈনউদ্দিন জাহেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ বেতারের সিনিয়র প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্স ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ও চবিআসের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোমতাহিনুল ইসলাম হাসনাত।
আলোচনায় বাচিকশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মাঈনউদ্দিন জাহেদ বলেন, “শিল্পের সকল শাখার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অনুষঙ্গ হলো, বাচিকশিল্প। বাচনিক নন্দন ব্যতীত অন্য শিল্প পূর্ণতা পায় না।” শিল্পচর্চার শুদ্ধতম প্রয়াসে আন্তরিক ও নিবিড় সংগঠনচর্চার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তজ্ঞান চর্চার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। অন্যথায় দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশ বেতারের সিনিয়র প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে একটি দেশের সামগ্রিক বিনোদন-চাহিদা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।
সংগঠনটির ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানসম্পন্ন কর্মশালা আয়োজন ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ বর্তমানে একটি অনন্য অবস্থানে পৌঁছেছে।
সভাপতির বক্তব্যে মোমতাহিনুল ইসলাম হাসনাত চবিআসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি উপস্থিত অতিথি, সাবেক সদস্য, প্রশিক্ষণার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় ২০২৫ সালের কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র এবং ‘নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০২৬ সালের কর্মশালার বিভিন্ন দিক নিয়ে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন চবিআসের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন ফাহিম।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক সদস্য ও বিভিন্ন বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।