শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত নাশকতার চেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:১৮:৪৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:২৮:৫৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে নয়, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত চলতে পারে। তবে সরকার এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন এবং এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাঁদের জীবনযাত্রার এই চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেভাগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির সমাধান হওয়ার কথা।
তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার কমিশন গঠন করেছে।
আন্দোলনে সহিংসতার বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের আচরণ প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অধীনস্থ বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন থাকার কথা জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন সরাসরি কিছু করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে। এসব তৎপরতার সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্যদের অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চায় না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরাও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতির অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে ফিরে আসুন কিংবা তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক—সরকারের অবস্থান একই। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশের বলপ্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন মেনে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশকে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে চর্চা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করার নীতি অনুসরণ করছে বর্তমান সরকার।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।