রাশেদ খানের সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনায় ডিআরইউর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ১১:৫৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ১১:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা কেবল একটি পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননা। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ জানানো ও আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ক্ষোভ প্রকাশ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। মতের অমিলের জবাব দিতে হবে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে।
তারা আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সেখানে প্রতিফলিত কোনো বিষয় অপছন্দ হলেই সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
ডিআরইউ নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আরও সংযত, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার অবস্থান কাউকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাকে অবজ্ঞা করার অধিকার দেয় না।
বিবৃতিতে তারা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা অবস্থান যা-ই হোক, পেশাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তারা।
ডিআরইউ নেতারা বলেন, কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবাদ জানানোই গণতান্ত্রিক পথ। সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা এবং অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষাংশে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা গেলেও সত্য প্রকাশের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যায় না। গণতন্ত্রে ভিন্নমত মোকাবিলা করতে হয় যুক্তি দিয়ে, অবজ্ঞা দিয়ে নয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।