ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: ওমর সাদাত
নগর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতা, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ ও নিরাপত্তা সংকট নিরসনে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৫৬:১৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:৫৭:০৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
এক সাক্ষাৎকারে ওমর সাদাত বলেন, ঢাকার সবচেয়ে বড় সংকট শুধু অবকাঠামোর অভাব নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। গ্যাস, পানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে মানুষকে আলাদা আলাদা সংস্থার দ্বারে যেতে হয়। লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো শহরের আদলে ঢাকার সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের স্থানীয় উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এসব এলাকায় স্থানীয় মানুষের অর্থায়নে প্রায় ১ হাজার ২০০ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের কমিউনিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও উত্তরাসহ অন্যান্য এলাকাতেও গড়ে তোলা সম্ভব।
নগর পরিকল্পনায় বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিম্ন আয়ের মানুষের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের উচ্ছেদ না করে নিরাপদ আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধানে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ওমর সাদাত। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি অভিযোগের জন্য ট্র্যাকিং নম্বর থাকবে। প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান না হলে অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে যাবে। পরবর্তী পর্যায়েও সমাধান না হলে তা মেয়র বা প্রশাসকের কাছে পৌঁছাবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ঢাকার সংকট নিরসনে সরকার ও নাগরিক—উভয় পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, প্রযুক্তিনির্ভর জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য মেগাসিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।