মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন নেই, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
মিরপুর-১০সহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ, এপিবিএন ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন; সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক, বিক্ষোভের চেষ্টা ছত্রভঙ্গ
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মিরপুর-১০ গোলচত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে সাঁজোয়া যান, জলকামান ও পুলিশের পিকআপ ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও শ্রমিকদের কোনো বড় ধরনের জমায়েত বা আন্দোলন দেখা যায়নি। তবে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক মাঠে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর সেখানে আর কোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি।
সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দাঙ্গা পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে মিরপুর-১০ মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সদস্য আরাফাত ও লিয়াকতের সঙ্গে কথা হয়। লিয়াকত জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকায় কয়েকজন নামার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে তারা সরে যান। এ ছাড়া মিরপুরের অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন না থাকলেও মিরপুরের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি ট্রাফিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্বেগও দেখা যায়নি।
এর আগে সোমবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের অভিযানে ৪০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। ডিবির দাবি, তদন্তে শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার নামও আলোচনায় এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য আসার পর মঙ্গলবার তাদের মাঠে তৎপরতা দেখা যায়নি। তার দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে দলটির নেতাকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর-১০ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শেওড়াপাড়া থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি মিরপুর-১০ গোলচত্বর ঘুরে শেষ হয়। এ সময় গার্মেন্টস খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।
পরে গোলচত্বরের পূর্ব পাশে শাহ আলী প্লাজার সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ থেকে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।