ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ: ইলিয়াস কাঞ্চন টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, তবু বাতিল বিআরটি প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের চার বড় উদ্যোগ ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া

মালয়েশিয়ার বাজার ধরতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য জরুরি: আনোয়ার শহীদ

এফটিএ হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হালাল পণ্য, ওষুধ, তৈরি পোশাক ও দক্ষতাভিত্তিক সেবা রপ্তানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া চেম্বারের সভাপতির।

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৯:৩০:৫৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৯:৩০:৫৮ অপরাহ্ন
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ২৭ বার পঠিত
মালয়েশিয়ার বাজার ধরতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য জরুরি: আনোয়ার শহীদ সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের আলোচনা সফল করতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ। তাঁর মতে, শুধু আমদানি-রপ্তানির শুল্ক কমানো নয়, চুক্তির আলোচনায় বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং সেবা খাতের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।


প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার শহীদ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসুবিধা হারাবে। ফলে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করা প্রয়োজন। মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।


প্রশ্ন: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব?


মো. আনোয়ার শহীদ: ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি করা সম্ভব। দুই দেশের সরকারপ্রধান ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, যা আলোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বিষয়।


সাধারণত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক বিষয় পর্যালোচনা ও সমন্বয় করতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য সীমিত। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক বাণিজ্যসুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ১০ থেকে ১২টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা সফল করতে উভয় পক্ষের আন্তরিকতা প্রয়োজন। চার-পাঁচটি, এমনকি ছয়-সাতটি বৈঠকও লাগতে পারে। দুই পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি করা সম্ভব।


প্রশ্ন: মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে। এফটিএ হলে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হতে পারে?


মো. আনোয়ার শহীদ: বাণিজ্যঘাটতির অন্যতম কারণ হলো আমাদের রপ্তানি পণ্যের সীমিত বৈচিত্র্য। মালয়েশিয়া থেকে আমরা অনেক পণ্য আমদানি করি, কিন্তু সেই তুলনায় রপ্তানি করতে পারি না। তাই শুধু আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য নিয়ে চিন্তা না করে রপ্তানি বাড়ানোর উপায় খুঁজতে হবে।


এফটিএ মানেই সব পণ্যের শুল্ক একবারে শূন্য হয়ে যাওয়া নয়। অনেক ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা থাকে। কোন পণ্যে কতটা ছাড় দেওয়া হবে এবং কখন তা কার্যকর হবে, সেগুলো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


মালয়েশিয়া থেকে জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে হয়। এসব পণ্যে শুল্ক কমলে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু তাতে বাণিজ্যঘাটতি কমবে না। তাই আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।


এফটিএ হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে।


প্রশ্ন: মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের কোন কোন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে?


মো. আনোয়ার শহীদ: প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হালাল পণ্যের ক্ষেত্রে আমরা ভালো করতে পারি। এ জন্য হালাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে এবং মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।


এটি করা গেলে বাংলাদেশের অনেক খাদ্যপণ্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, ওষুধ, রাসায়নিক পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, হিমায়িত খাদ্য ও আসবাবপত্র রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।


পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমরা সাধারণত জনশক্তি রপ্তানি বলতে নির্মাণ বা বাগানের শ্রমিকদের কথা ভাবি। কিন্তু প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক সেবার ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত। সেমিকন্ডাক্টর নকশার মতো প্রযুক্তিনির্ভর কাজেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ বাড়বে।


প্রশ্ন: মালয়েশিয়া ভারত, পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশের সঙ্গে এফটিএ করেছে। বাংলাদেশের কি সেসব চুক্তি পর্যালোচনা করা উচিত?


মো. আনোয়ার শহীদ: অবশ্যই। মালয়েশিয়া অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কী ধরনের চুক্তি করেছে, কোন পণ্যে কী সুবিধা দিয়েছে এবং চুক্তির ফলে কী ধরনের বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।


বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষির অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। এত দিন বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল না। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিদ্যমান বাণিজ্যসুবিধা কমে আসবে। তাই অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় এগোতে হবে।


প্রশ্ন: এফটিএ আলোচনায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা কতটা জরুরি?


মো. আনোয়ার শহীদ: বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানির মূল কাজটি করেন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা। কোন পণ্যে কী ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে, কোথায় প্রতিবন্ধকতা আছে এবং বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কী সমস্যা হতে পারে, তা তাঁরা ভালো জানেন।


তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আলোচনায় যুক্ত করা হলে চুক্তিটি আরও কার্যকর হতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা হবে, তা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।


প্রশ্ন: এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করা সম্ভব?


মো. আনোয়ার শহীদ: অবশ্যই। এফটিএ শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ বাড়ায় না, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আলোচনায় মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।


একই সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজতে হবে। মালয়েশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য বাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দেশটির সঙ্গে সফলভাবে এফটিএ করা গেলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।


প্রশ্ন: এফটিএ আলোচনায় জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত?


মো. আনোয়ার শহীদ: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি সহজ করার বিষয়টি অবশ্যই আলোচনায় থাকতে হবে। বর্তমানে আমাদের অনেক কর্মী বিদেশে গেলেও তাঁদের বড় অংশ কম দক্ষতার কাজে নিয়োজিত হন। তাঁদের দক্ষতা বাড়িয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের সেবামূলক কাজে যুক্ত করা গেলে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।


সেমিকন্ডাক্টর নকশার মতো প্রযুক্তিগত কাজে দক্ষ জনবল তৈরি করা গেলে কয়েক শ কর্মীরও বিদেশে কাজের সুযোগ হতে পারে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক আয় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।


সমাপনী বক্তব্য: আনোয়ার শহীদের মতে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ বাংলাদেশের জন্য শুধু বাণিজ্যঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নয়; বরং রপ্তানি বৈচিত্র্য, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে চুক্তির আলোচনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ, হালাল সনদের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।


উৎস ও কৃতিত্ব: প্রথম আলো, ‘মালয়েশিয়ার বাজার ধরতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে’। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শুভংকর কর্মকার। সাক্ষাৎকারদাতা মো. আনোয়ার শহীদ, সভাপতি, বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এটি মূল সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সম্পাদিত ও পুনর্গঠিত প্রতিবেদন; নিজস্ব সাক্ষাৎকার নয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৪

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।