ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার শিকার বাইন্যান্স
৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত, জব্দ হয়েছে প্রায় অর্ধেক
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৯:১৫:২৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৯:১৫:২৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৪১ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা সম্ভব হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাইন্যান্স জানায়, প্রাথমিক তদন্তে তাদের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ল্যাপটপটি হ্যাক হওয়ার পর সেটি ব্যবহার করে হামলাকারীরা অনুমতি ছাড়াই ডিজিটাল সম্পদ উত্তোলন করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় সব ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাইন্যান্স।
দুটি ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এ ঘটনা ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে সংঘটিত ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংয়ের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, বাইন্যান্সে হামলার বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে। এর মধ্যে বাইবিটের হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রয়েছে।
টিআরএম ল্যাবসের বৈশ্বিক নীতিবিষয়ক প্রধান অ্যারি রেডবোর্ড বলেন, বাইন্যান্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের জন্য নজিরবিহীন। হামলাকারীদের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ চুরি হওয়া সম্পদ রয়েছে। ফলে এসব অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে আরও দীর্ঘ প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
আরেক ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও এ হামলার সঙ্গে উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাপ্রধান এরিক জার্ডিন সব ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ থাকার কারণে এসব প্ল্যাটফর্ম হ্যাকারদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু।
হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বাইন্যান্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা।
এদিকে, বাইন্যান্সের সম্পদ জব্দে সহযোগিতা করেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান টেথার ও সার্কেল। প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তারা মোট প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। এর মধ্যে সার্কেল ৮০ কোটির বেশি ডলার এবং টেথার প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে।
বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ই হে সম্পদ জব্দে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপাতত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করতে তারা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করেছে। অন্যদিকে, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচার সুযোগ দেয়। বিশ্বজুড়ে এ প্ল্যাটফর্মের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিতেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে বাইন্যান্স জানিয়েছিল, তাদের হেফাজতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
হ্যাকিংয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য বড় ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।