বাংলাদেশে বিনিয়োগে সিঙ্গাপুরকে আহ্বান স্পিকারের
ডেরেক লোর সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি অনুসন্ধান, বিদেশি বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা ও জাহাজ নির্মাণশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা।
- আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬ ০৩:৪১:১৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৬ ০৩:৪৫:৫২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি অনুসন্ধান থেকে শুরু করে জাহাজ নির্মাণ ও শিল্পায়ন—বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ভোলাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে তাঁর কার্যালয়ে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। স্পিকার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি লি কুয়ান ইউর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও আলোচনায় স্থান পায়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্পিকারের মতে, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোর কারিগরি দক্ষতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি সামনে আনেন ডেরেক লো। তাঁর মতে, তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার জরুরি। শুধু প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও আধুনিক ড্রাই ডক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতিকে আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সফর বিনিময়, সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন। পাবলিক পরীক্ষা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সিঙ্গাপুর দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।