২০২৬ সালে গতি পেয়েছে কোয়াড, এগিয়েছে তিন দেশের বৈঠক
দিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টার বৈঠকে সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ, তিন দফা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহযোগিতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৯:৩২:৫৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৯:৩২:৫৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৩ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা জোরদারে ২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত জোট কোয়াড। দিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টায় তিন দফা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জোটটি যৌথ অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে অগ্রগতি করেছে। আগামী নভেম্বরে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় কোয়াড নেতাদের সম্ভাব্য সম্মেলনের আগে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত কাশিশ পারপিয়ানির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে কোয়াডভুক্ত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। এর আগে মে মাসে ভারতের নয়াদিল্লি এবং জুলাইয়ে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় বৈঠক করেন তাঁরা। ২০২৫ সালে নয়াদিল্লিতে নির্ধারিত কোয়াড নেতাদের সম্মেলন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে নেতাদের সম্মেলন ছাড়াও ২০২৬ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বেশ কিছু বাস্তব উদ্যোগ এগিয়েছে।
আটলান্টার বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো ও স্থাপনা উন্নয়নে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করে এমন একতরফা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, বাজারবহির্ভূত নীতি ও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চার দেশ। মে মাসে নয়াদিল্লির বৈঠকে ঘোষিত ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারাবাহিকতায় বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের নিজস্ব খনিজ উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গেও এ উদ্যোগের সামঞ্জস্য রয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আসিয়ানের ভূমিকার বিষয়েও কোয়াডের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। জুলাইয়ে ম্যানিলার বৈঠকে চার দেশ ‘আসিয়ান আউটলুক অন দ্য ইন্দো-প্যাসিফিক’ বাস্তবায়নে সমর্থন জানায়। সামুদ্রিক ও আন্তদেশীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তা ও জরুরি সাড়াদানকে যৌথ সহযোগিতার অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু বলেন, আসিয়ান-সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ম্যানিলায় কোয়াডের এই বৈঠক আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ও ঐক্যের প্রতি জোটটির সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের সঙ্গে কোয়াডের উদ্যোগের সম্পর্ক নিয়ে যে অস্পষ্টতা ছিল, নতুন অবস্থান তা কমাতে সহায়তা করবে।
আটলান্টার বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চার দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি প্রতিনিধি ও নীতিবিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে সহযোগিতার সম্ভাবনা খুঁজতে আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তাও কোয়াডের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মে মাসে ঘোষিত ‘কোয়াড ইনিশিয়েটিভ অন ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি’-এর অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরে প্রথম ‘কোয়াড ফুয়েল সিকিউরিটি ফোরাম’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত ও জ্বালানি সংরক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এশিয়ায় অপরিশোধিত তেলের আমদানি অক্টোবরে ইরান সংঘাতের আগের পর্যায়ে ফিরলেও পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে চাপ রয়ে গেছে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ‘কোয়াড অ্যাট সি’ জাহাজ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দ্বিতীয় ‘ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক’ টেবিলটপ মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে জোটটি।
বিশ্লেষক কাশিশ পারপিয়ানির মতে, কোয়াডের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও ২০২৬ সালের কার্যক্রমে জোটটির অগ্রাধিকার ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে। দিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টার তিন বৈঠকে ঘোষিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে এবং সহযোগিতার পরিসর বেড়েছে। এখন এসব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করাই কোয়াডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।