শিশুদেরও হতে পারে স্ট্রোক, যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে
নবজাতক থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত যেকোনো শিশুর স্ট্রোক হতে পারে। লক্ষণ চিনতে দেরি হলে বাড়তে পারে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি।
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ১০:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ১০:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৫ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
স্ট্রোক শুধু বয়স্ক মানুষের রোগ নয়। নবজাতক থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদেরও স্ট্রোক হতে পারে। যদিও শিশুদের মধ্যে এ রোগ তুলনামূলক বিরল, তবে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অনেক সময় অভিভাবকেরা শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।
স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণের কারণে ঘটে। শিশুদের ক্ষেত্রেও স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের।
ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
শিশুদের স্ট্রোকের সম্ভাব্য কারণ
শিশুদের স্ট্রোকের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মগত হৃদ্রোগ বা হৃদ্যন্ত্রের গঠনগত সমস্যা, সিকেল সেল ডিজিজের মতো রক্তের রোগ, মস্তিষ্কের রক্তনালির জন্মগত ত্রুটি এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।
এ ছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাত, কিছু সংক্রমণ, মস্তিষ্কের রক্তনালিতে প্রদাহ এবং অন্যান্য রক্তনালিজনিত সমস্যার কারণেও শিশুদের স্ট্রোক হতে পারে।
শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ
শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে বড়দের মতোই। তবে শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে লক্ষণে কিছু পার্থক্য দেখা দিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো হলো:
1. হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া।
2. মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া।
3. কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
4. হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হওয়া।
5. হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো বা বারবার পড়ে যাওয়া।
6. হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বিশেষ করে বমি ও অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাবের সঙ্গে।
7. হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া, বিশেষ করে শরীরের এক পাশে।
8. অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা অচেতন হয়ে যাওয়া।
লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
শিশুর মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়। দ্রুত শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে।
এ সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো ওষুধ দেওয়া যাবে না। শিশুকে জোর করে খাবার বা পানি খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।
লক্ষণ কিছুক্ষণ পর সেরে গেলেও হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। কারণ সাময়িকভাবে লক্ষণ কমে যাওয়া মানেই বিপদ কেটে যাওয়া নয়। দ্রুত চিকিৎসা শিশুর জীবন রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।