কণ্ঠনালির ক্যানসার কেন হয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
দীর্ঘদিন গলা ভাঙা, গিলতে অসুবিধা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে সতর্কসংকেত। দ্রুত রোগ শনাক্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১০:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১০:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩০ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, দীর্ঘদিন গলা ভাঙা থাকা কিংবা শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া কণ্ঠনালির ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে থাকা ভোকাল কর্ডের মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠস্বর তৈরি হয়। এ অংশে ক্যানসার হলে কথা বলা, খাবার গেলা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কণ্ঠনালির ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ ধূমপান। এ ছাড়া মদ্যপান, বিশেষ করে ধূমপানের সঙ্গে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জর্দা ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা গরম খাবার খাওয়া কিংবা কণ্ঠস্বরের অতিরিক্ত ব্যবহারকে কণ্ঠনালির ক্যানসারের প্রতিষ্ঠিত প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
কণ্ঠনালির ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকা, কণ্ঠস্বরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, শ্বাসকষ্ট, খাবার বা পানি গিলতে অসুবিধা এবং গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি। এ ছাড়া গলায় বা ঘাড়ে চাকা কিংবা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং কখনো কখনো কানে ব্যথা হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হলে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। ফাইবার অপটিক ল্যারিঙ্গোস্কোপির মাধ্যমে স্বরযন্ত্র ও ভোকাল কর্ড পরীক্ষা করা যায়। ক্যানসারের সন্দেহ হলে আক্রান্ত স্থান থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে বায়োপসি ও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
কণ্ঠনালির ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়, টিউমারের অবস্থান এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী কেমোথেরাপিও দেওয়া হতে পারে। উন্নত পর্যায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্বরযন্ত্র সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতা প্রভাবিত হয়। তখন কৃত্রিম স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালির মাধ্যমে কথা বলা কিংবা অন্যান্য স্পিচ রিহ্যাবিলিটেশন পদ্ধতির সাহায্যে যোগাযোগের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার, মদ্যপান থেকে বিরত থাকা এবং দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো ও দ্রুত রোগ শনাক্তে সহায়তা পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে কণ্ঠনালির ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই দীর্ঘদিন গলা ভাঙা থাকা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ফেলে না রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।