অসুস্থ সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী, এনজিওগ্রাফির পরামর্শ চিকিৎসকদের
বুকে ব্যথা ও অস্বস্তি নিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান শিক্ষক।
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১০:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১০:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান শিক্ষক মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি বুকে অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভব করার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে এনজিওগ্রাফি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনায় অনুসারী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি বুকের কাছে বা হৃদযন্ত্রের আশপাশে ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। এরপর তাঁকে দ্রুত এনজিওগ্রাফি করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত চিকিৎসা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
১৯৪১ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী। তাঁর পিতা ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও বিশিষ্ট ইসলামি আলেম শাইখুল ইসলাম মাওলানা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)।
শৈশবে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে ফার্সি, আরবি ও উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথম বিভাগে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করে জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখেন।
১৯৬৪ সালে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৮২ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন। পরে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সদরুল মুদাররিসিন বা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুনানুত তিরমিযী অধ্যাপনা করছেন।
শিক্ষা ও ধর্মীয় গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তিনি মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ বা রাবেতা আল আলম আল ইসলামী এবং সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক হাদিস বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন মাওলানা আরশাদ মাদানী। ১৯৮৪ সালে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে সংগঠনটির সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে তাঁকে ‘আমিরুল হিন্দ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
ভারতে ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ এবং শিক্ষার প্রসারে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া হিন্দি ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির রচনা এবং প্রাচীন ইসলামি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।
মাদানি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর অসুস্থতার খবরে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া করছেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।