৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শ্রীপুরের মজনু, পেয়েছেন জিপিএ-৪.৬৩
জীবনের নানা বাধা পেরিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফল; বয়স যে শিক্ষার পথে বাধা নয়, তা দেখালেন মজনু মিয়া
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৯:৩০:৪২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৯:৩০:৪২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরের ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়া ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। জীবনের নানা ব্যস্ততা, সংসারের দায়িত্ব ও ব্যবসা সামলেও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা হারাননি তিনি। দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবারও পরীক্ষার হলে বসে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
মো. আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়া শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন কাইয়ার ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
১৯৭৩ সালে জন্ম নেয়া মজনু কাইয়া ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বরমী ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি তাঁর।
এ দীর্ঘ সময়ে শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও থেমে থাকেনি জীবনসংগ্রাম। পড়াশোনা ছেড়ে শুরু করেন মুরগি পালনের ব্যবসা। একে একে কেটে যায় দীর্ঘ ৩২ বছর। সংসার, ব্যবসা ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আর পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে মনের মধ্যে অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার ইচ্ছা রয়ে যায় তাঁর।
একপর্যায়ে ৫৪ বছর বয়সে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভর্তি হন গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে। এরপর একদিকে পোলট্রি ব্যবসা, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব সামলে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। অবশেষে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
বর্তমানে মজনু কাইয়া ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বয়স যে শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মজনু কাইয়া বলেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
এই বয়সে ছেলের আবার পড়াশোনা শুরু করা এবং ভালো ফল করায় আনন্দিত তাঁর বৃদ্ধ মা আনোয়ারা খাতুন। তিনি বলেন, ছেলে ভালো লেখাপড়া করছে, এটা সত্যিই গর্বের বিষয়।
শ্রীপুরের ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে শিক্ষা লাভ করা একজন মানুষের অধিকার। মজনু কাইয়া একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য। তাঁর এ ফলে তাঁরা গর্বিত।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।