হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে ইরানের সহযোগিতার আশ্বাস
আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিরাপদ চলাচলে সহায়তার আশ্বাস ইরানের রাষ্ট্রদূতের
- আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৩:০৩:৫৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৩:০৩:৫৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পারাপারে সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অংশ হিসেবে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশের জনগণকে মুসলিম ভাই-বোন হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ইরানের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ এবং মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবস্থানেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানের কাছে এ ধরনের সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ, যা দেশটি মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে পূর্ণ শক্তিতে তা মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত। তবে তেহরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু করতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে ইরান নতুন ড্রোন তৈরি করেছে এবং যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের পরিবর্তে শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবতায় বিশ্বাসী।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। তাঁর ভাষ্য, আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে দেশটি কোনো আরব রাষ্ট্রে আক্রমণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তিনি পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জালিল রাহিমি বলেন, এ বিরোধ ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতার কারণে ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।
শিয়া-সুন্নি বিভাজনের বিষয়টি নাকচ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান সমর্থনের ক্ষেত্রে কোনো গোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেয় না। সুন্নি সংগঠন হামাসকেও দেশটি সমর্থন করছে। একইভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদেরও সমর্থন দিতে ইরান প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল পরাজিত হলেও ইরান বিষয়ে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন জালিল রাহিমি। তাঁর মতে, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।