৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনাকার্টা’ বললেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনায় জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০২:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০২:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৭২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনাকার্টা’। তিনি বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ এই দিনের পথরেখা থেকে সরে যাওয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ধর্ম, বর্ণ, দল ও মতের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের সব নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবাই এই পরিচয়ের অংশ। তাঁর মতে, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে এই জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তাই বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের তাৎপর্যও তত দিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। তিনি ৭ নভেম্বরের নায়ক হিসেবে দেশপ্রেমিক সিপাহি ও জনতার কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন, ৭ নভেম্বরেও তিনি দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনা স্মরণ করার বিষয় নয়; বরং তা জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টেডিয়ামে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তা আশাব্যঞ্জক। ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমানের মতে, তরুণদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ না থাকলে দেশের মানুষের ঐক্য দৃঢ় হয় না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তরুণরা বাংলাদেশের স্বার্থে আপসহীন ভূমিকা রেখেছে। তাঁর বক্তব্যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিই সবার মধ্যে ধারণ করা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। দেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ঐক্য ধরে রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে।
স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব ধরে রাখার পাশাপাশি তা অর্থবহ করে তোলার দায়িত্বও প্রতিটি প্রজন্মের বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে তরুণদের একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাকে অভিভাবকদের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে—ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।