বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী
৭ নভেম্বরের অঙ্গীকার হওয়া উচিত জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা: তারেক রহমান
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ১০:১৮:১৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ১০:১৮:১৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৮ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেটিই ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল ৭ নভেম্বর দিবসটি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন তিনি।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। ওই দিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাস ও অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে। ইতিহাসচর্চায় সারাক্ষণ নিমগ্ন থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল।
তারেক রহমানের ভাষ্য, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তি পরে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তার অভিযোগ, বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে। ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দেশপ্রেমিক মানুষের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা জোগাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।