তাহসিফের মৃত্যুতে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা
দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হলো তাঁকে
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৯:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৯:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন।
এদিন রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করতে তাঁদের বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় জেরিকার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামিনে মুক্তি পেলে দিশা পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাঁকে আবারও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১ নভেম্বর আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ৪ নভেম্বর আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপ ও দিশাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।