সোনারগাঁয়ে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সজিনা চাষ, কম খরচে লাভের আশা কৃষকের
বারমাসি জাতের সজিনা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ, তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৪:১৭:৩২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৪:১৮:৩০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনায় বাণিজ্যিকভাবে সজিনা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ফসলের উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় উৎপাদিত সজিনা সহজে বাজারজাত করার সুযোগও রয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারমাসি জাতের সজিনার প্রদর্শনী বাগান স্থাপন করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে প্রায় ১১ হাজার ২২৯ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে বর্তমানে ১০ হেক্টর জমিতে সজিনা চাষ হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে রয়েছে পাঁচটি সজিনা বাগান, যার প্রতিটির আয়তন প্রায় ২০ শতাংশ। এ ছাড়া ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি বারমাসি সজিনার প্রদর্শনী বাগান স্থাপন করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং জুলাই-আগস্ট মাসে সজিনা চাষের উপযুক্ত সময়। ডাল কাটিং ও বীজের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা যায়। সারি থেকে সারি সাত ফুট এবং গাছ থেকে গাছ পাঁচ ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। অতিরিক্ত পানি গাছের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত ডালপালা ছাঁটাই প্রয়োজন।
উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুপ্রেরণায় এ বছর ২০ শতাংশ জমিতে সজিনার চারা লাগিয়েছেন। গাছগুলো ইতোমধ্যে ৬ থেকে ৭ ফুট লম্বা হয়েছে। ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, জামপুর ইউনিয়নের তিলাব গ্রামের কৃষক হাজী মুক্তার হোসেন ভূঁইয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চার মাস আগে তাকে ৬৫টি সজিনার চারা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গাছগুলো বড় হয়েছে এবং কয়েকটিতে ফুলও এসেছে। এ বছর সজিনা বিক্রি করে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, সজিনার পাতা ও ফলে রয়েছে নানা পুষ্টি উপাদান। পাতা শুকিয়ে মোরিঙ্গা পাউডারসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্য তৈরি করা যায়। ফলে কাঁচা সজিনা বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমেও আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক জানান, সজিনা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ হওয়ায় একবার গাছ প্রতিষ্ঠিত হলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বারি সজিনা-১ ও ওডিসি-৩-এর মতো উন্নত জাত চাষের সুযোগ রয়েছে। এসব জাতের মাধ্যমে বছরের দীর্ঘ সময় সজিনা উৎপাদন সম্ভব।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।