রংপুরের চরাঞ্চলে আন্তঃফসল চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে প্রায় ৬ লাখ টন ফসল উৎপাদন
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ১১:২৪:২৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ১১:২৪:২৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৫ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
রংপুর কৃষি অঞ্চলের নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে আন্তঃফসল পদ্ধতিতে শীতকালীন ফসল চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে ওঠা চর ও শুকিয়ে যাওয়া নদীর তলদেশে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জীবিকা বদলের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৮২ হাজার হেক্টরের বেশি চরাঞ্চলের জমিতে বছরে প্রায় ৬ লাখ টন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে জানান, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদ-নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন করেন কৃষকেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও বন্যার ঝুঁকি সত্ত্বেও এসব এলাকায় বিষমুক্ত শীতকালীন ফসলের উৎপাদন স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছে। পাশাপাশি উন্নতি হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ঘাঘট, যমুনা ও করতোয়াসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী এলাকা, বালুচর এবং পলিযুক্ত নদীর তলদেশে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। এসব জমিতে আলু, স্কোয়াশ, কুমড়া, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, চিনাবাদাম, তিল, তামাক, কলা, বিভিন্ন ধরনের ডাল ও তরমুজসহ নানা ফসল চাষ করা হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব বালুকাময় জমিতে শীতকালীন ফসলের বীজ বপন শুরু হবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফসল তোলা শুরু হবে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই, অর্থাৎ আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে ফসল উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
ইন্টারন্যাশনাল মেজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টার, বাংলাদেশের ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের পরামর্শক কৃষিবিদ ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, চরাঞ্চলে ফসল চাষ এখন লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মধ্যেও এ চাষাবাদ অনেক মানুষের জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
তিনি জানান, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার চরগ্রাম ও নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকেরা আন্তঃফসল পদ্ধতিতে বিভিন্ন শীতকালীন ফসল উৎপাদন করছেন। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর বালুচর এবং শুকিয়ে যাওয়া নদীর তলদেশে আলু, কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, সরিষা, ডাল ও নানা ধরনের শাকসবজি চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরকারি সহায়তায় অনেক চরাঞ্চলের পরিবার বিভিন্ন ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চর মহিপুর গ্রামের নূর ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, কবিজা খাতুন ও মোরশেদা বেগম জানান, তাঁরা তিস্তা নদীর অববাহিকার চরাঞ্চলে শীতকালীন ফসলের বীজ বপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কাউনিয়া উপজেলার চর তালুক শাহবাজ গ্রামের বকতার আলী ও মোমেনা বেগম এবং ঢুষমারা চরের আব্দুল মালেক জানান, গত বছর ভালো মুনাফা পাওয়ায় এবারও তাঁরা চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়ার বীজ রোপণ করছেন।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর ডেবরিখোলা জানকারচৈড় গ্রামের আবু সাদ্দাম, আব্দুল হামিদ ও সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ মৌসুমে শীতকালীন বিভিন্ন ফসলের বীজ বপনের জন্য তাঁরা জমি প্রস্তুত করেছেন। আগের বছরগুলোর মতো এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তাঁরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।