'অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ' বা সমন্বিত প্যাকেজ নামে এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তির প্রয়োজন হবে না। বিদেশি হজ এজেন্সি এবং হজযাত্রীদের বিষয়ক দপ্তরগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি মাত্র আবেদন জমা দিতে পারবে। এতে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা প্রক্রিয়াগুলো সহজ করবে, স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং হজ এজেন্সি, হজযাত্রীদের বিষয়ক দপ্তর ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক আরও স্পষ্ট করবে।
সমন্বিত প্যাকেজে চারটি প্রধান ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এগুলো হলো—পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং খাবার। বিভিন্ন ধরনের হজযাত্রীদের জন্য কর্মসূচিকে উপযোগী করে তুলতে এজেন্সিগুলো চাইলে অতিরিক্ত কিছু ঐচ্ছিক সেবাও যুক্ত করতে পারবে।
এর আগে আয়োজকদের প্রতিটি সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি করতে হতো। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় পুরো হজযাত্রার প্রয়োজনীয় সেবাগুলো একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে একত্র করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি চুক্তিতে কোন কোন সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।
আগামী ২০২৭ সালের হজ মৌসুমের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সৌদি আরবের ২০৩০ সালের ভিশন এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নয়ন কর্মসূচির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
এই উদ্যোগটি 'নুসুক মাসার' ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা হজযাত্রী, কর্মকর্তা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং হজযাত্রীদের বিষয়ক দপ্তরগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের নমনীয় প্যাকেজ তৈরি করতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে আগে যেসব প্রক্রিয়া আলাদা আলাদা মাধ্যমে পরিচালিত হতো, সেগুলোকে একটি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
বিদেশি হজযাত্রীরাই হজে অংশ নেওয়া মানুষের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।
সাধারণ পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হজ মৌসুমে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন হজযাত্রীর মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন সৌদি আরবের বাইরে থেকে এসেছিলেন। অন্যদিকে, সৌদি আরবের ভেতর থেকে হজ পালন করেছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।
হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নয়ন কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ওমরাহ পালনকারীদের গ্রহণের সক্ষমতা বাড়িয়ে ৩ কোটি করা এবং একই বছর হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা।
হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগের সময় থেকে শুরু করে সেখানে অবস্থানের পুরো সময় তাদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার বিষয়টি এই কর্মসূচি চালুর পর থেকেই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এর আগে মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ওমরাহর সময়সূচি ঘোষণা করেছিল এবং নুসুক মাসারের মাধ্যমে এজেন্টদের যোগ্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার সেবা চালু করেছিল।
মন্ত্রণালয় সাধারণত কয়েক ধাপে হজসংক্রান্ত ব্যবস্থা ঘোষণা করে থাকে। শুরুতে চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তা ও শর্তগুলো জানানো হয় এবং হজ শুরুর সময় যত ঘনিয়ে আসে, পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা পরিচালনার বিস্তারিত তথ্য তখন দেওয়া হয়।