জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের
সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ১১:১৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ১১:১৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা উচিত। তিনি সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বিশ্বব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের প্রধান মাধ্যম হবে। একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণের শুরুতে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী এবং দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বিদায়ী সভাপতি এনালেনা বেয়ারবককে ধন্যবাদ জানান।
বিশ্বের চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বায়নের সময়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ঘটনা বিভিন্ন রাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াকেই সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকার রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি আর কৌশল অনুসরণ করছে। পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান তিনি। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।