ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভিডিওটি কি নতুন, নাকি পুরোনো: মেহের নিউজের ফুটেজ
মেহের নিউজে প্রকাশিত ফুটেজটি নতুন নাকি পুরোনো, তা নিয়ে প্রশ্ন; ভিডিওটির ধারণের তারিখ নিশ্চিত নয়।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ১২:০২:৪৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ১২:০২:৪৮ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১০০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে যখন নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর গুঞ্জন থামার বদলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে, ভিডিওটি আসলে কবে ধারণ করা হয়েছিল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
শনিবার (৮ আগস্ট) মেহের নিউজ প্রকাশিত ওই ভিডিওতে কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই তথ্য যাচাইকারী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ দাবি করেছে, এটি নতুন কোনো ভিডিও নয়, বরং যুদ্ধের আগের পুরোনো ফুটেজ।
ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান, ইউএএনআইয়ের নীতি বিষয়ক পরিচালক জেসন ব্রডস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ভিডিওটি ইরানের কোমে মোজতবা খামেনির দেওয়া পুরোনো একটি বক্তৃতার ফুটেজ। তাঁর দাবি, মার্চ মাসেও একই ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছিল।
ফলে মেহের নিউজের প্রকাশ করা ভিডিওটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এটি কি মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থার প্রমাণ, নাকি পুরোনো একটি ভিডিও দিয়ে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে নানা ধরনের খবর ছড়িয়েছে। এমনকি দ্য জেরুজালেম পোস্টের একটি প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুর গুঞ্জনও উঠে আসে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে মেহের নিউজের ভিডিও প্রকাশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও ভিডিওটির ধারণের সময় নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।
হামলার পর থেকেই আড়ালে মোজতবা খামেনি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি উপস্থিতির বদলে লিখিত বার্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা এখন অত্যন্ত কঠিন। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে মেহের নিউজের প্রকাশ করা ভিডিওটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ভিডিওটি যদি সাম্প্রতিক সময়ের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। আর যদি এটি পুরোনো ফুটেজ হয়, তাহলে কেন এই মুহূর্তে সেটি প্রকাশ করা হলো, সেটিই হয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
তবে এখন পর্যন্ত ভিডিওটির ধারণের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে মেহের নিউজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওটি নতুন নাকি পুরোনো, তা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটেনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।