ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ক্ষমতাচ্যুত পেনা, প্যারাগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে অভিশংসিত হয়ে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ১১:২২:২২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ১১:২২:২২ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে অভিশংসিত হয়ে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৫২ বছর বয়সী রক্ষণশীল রাজনীতিক পেদ্রো আলিয়ানা।
গতকাল শুক্রবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্যারাগুয়ের ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন আলিয়ানা। একই দিনে পেনার ক্ষমতার অবসান ঘটে। দেশটির ৪৫ সদস্যের সিনেটের মধ্যে ৪৪ জন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। একজন ভোটদানে বিরত থাকেন।
অভিশংসনের পর আস্থার অপব্যবহারসহ কয়েকটি অপরাধের সন্দেহে পেনাকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
উয়েনো ব্যাংকের পতন ঘিরে সংকট
এ সপ্তাহে প্যারাগুয়ের প্রভাবশালী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান উয়েনো ব্যাংকের আকস্মিক পতনের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে পেনার। ব্যাংকটির কার্যক্রমের ওপর সরকারি সংস্থাগুলোর যথাযথ নজরদারি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি ব্যাংকটির সঙ্গে পেনার ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, উয়েনো ব্যাংক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকটির ঋণ ও অন্যান্য বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত ছিল না।
এরপর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উয়েনোর অবশিষ্ট সম্পদ অন্য ব্যাংকগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সংকটের কারণে ব্যাংকটির লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাবের টাকা ও পেনশনের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারান।
প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক নিয়ে উয়েনো ব্যাংক ছিল প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটিতে পেনশনসহ সরকারের বিভিন্ন তহবিলের অর্থও জমা ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটি দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর থেকে অনেক গ্রাহক তাঁদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ তুলতে পারছেন না।
পেনার বিদায়, কারভালোর বিরুদ্ধেও পরোয়ানা
গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেনা লেখেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। যাঁরা এখনো উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের কষ্টের বিষয়টি আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করছি।’
এদিকে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান কার্লোস কারভালোর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উয়েনো ব্যাংকের ওপর যথাযথ নজরদারি করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন কারভালো।
সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে উয়েনো ব্যাংক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। দেশটির সরকারি পেনশন তহবিলের প্রায় ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার এ ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
৪৭ বছর বয়সী সান্তিয়াগো পেনা ২০২৩ সালের আগস্টে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।