ঢাকা , রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ , ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ, শুরু হবে পাইলট প্রকল্প জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন, মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা যানজট নিয়ন্ত্রণে ড্রোন নজরদারি চালু করছে ডিএমপি আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধের সম্ভাবনা কম চীনের ফ্রান্সে রেকর্ড তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল: প্রাণ হারালেন ৭ হাজারের বেশি ট্রাম্পের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের ভূখণ্ড’ দাবি ইরানের জ্বালানি তেলের মজুত ৬ মাসে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের ৫০তম বিসিএসের দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ বায়তুল মোকাররমে এসি স্থাপনের নামে মূল আর্চ ভাঙার অভিযোগ ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান জ্বালানি সংকট কাটাতে সরাসরি ক্রয়ে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন এক্সিলারেটের টার্মিনালে এলএনজি শেষ, ফের গ্যাস সরবরাহে সংকট উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসা ছাত্র সংঘর্ষ আরব আমিরাতে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ভারতে শেখ হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে আছেন জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত: ইসরায়েল ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন ভাসল নৌকা: অনাহারে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু বিএনপি সরকারের ৬ মাস: অর্থনৈতিক অবস্থা চাপে

আরাফার রোজা কেন ৯ জিলহজ্ব?

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ০৮:০৫:৪১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ০৮:০৮:১৩ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৮৪ বার পঠিত
আরাফার রোজা কেন ৯ জিলহজ্ব? প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)

আরাফার রোজা কবে সেটা নিয়ে মতানৈক্য আছে। আমি কেন ৯ জিলহজ্বকে অগ্রগণ্য মনে করি তার ৪টা কারণ তুলে ধরছি।

১. সর্বসম্মতিক্রমে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হয় মোট ৫ দিন। যা শুরু হয় আরাফার দিন ফজর থেকে, শেষ হয় কুরবানির ঈদের ৩য় দিন আসরের সময়ে। আলী রা. সহীহ সনদে এসেছে, তিনি আরাফার দিন ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্বের আসর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরিক পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা)

যদি আরাফার দিন মানে ধরা হয় যেদিন সৌদিতে হাজিরা আরাফার ময়দানে সমবেত হন, তাহলে যেসব দেশে সময়ের ব্যবধানের কারণে তারিখ ১দিন পিছিয়ে থাকে, তাদের তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে ৬ দিন। অর্থাৎ ৮ জিলহজ্ব থেকে ১৩ জিলহজ্ব। এটি সর্বসম্মতিক্রমে পরিত্যাজ্য।

২. আরাফার দিনের পরের দিনই হলো ঈদের দিন। মাঝে অন্য কোন দিনের ব্যবধান নেই। এটাই সালাফের যুগ থেকে চলে আসা সর্বসম্মত বিষয়। যদি আরাফার দিন মানে ধরা হয় যেদিন সৌদিতে হাজিরা আরাফার ময়দানে সমবেত হন, তাহলে যেসব দেশে সময়ের ব্যবধানের কারণে তারিখ ১দিন পিছিয়ে থাকে, তাদের আরাফার দিন ও ঈদের দিনের মাঝে বাড়তি একটা দিন থাকে। এটার কথা কোথাও নেই।

৩. আরাফার রোজা মানে যদি এটাই হয় যে, আরাফাতে হাজিরা সমবেত হওয়া শর্ত, (সেহিসেবে দূরবর্তী দেশগুলোতে যখন ৯ জিলহজ্ব আসে, তখন হাজিরা আর আরাফাতের ময়দানে থাকে না) তাহলে ইতিহাসে একাধিকবার এমন হয়েছে যে, দুর্যোগের কারণে হজ্বই হয়নি। সেই বছরগুলোতে যেহেতু হাজিরা আরাফাতে সমবেত হয়নি, তাই আরাফার দিনের ফজিলত কি নাই হয়ে গেছিল? মোটেও না। বরং হজ না হবার কারণে আরাফার ময়দানে কেউ হাজির না হলেও এই দিনের ফজিলত থাকবে। এর দ্বারাও বুঝে আসে, হাজিদের ময়দানে হাজির থাকা জরুরি কোন বিষয় নয়।

৪. সালাফের যুগ থেকে আরাফার দিন হিসাবে ৯ জিলহজ্বকেই ধরে আসা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা দূর-দূরান্তের খবর নিমিষেই জানার মাধ্যম আবিষ্কার হবার আগে ৯ জিলহজ্বেই আরাফার রোজা রাখা হতো। দূরবর্তী দেশগুলোতে আরাফার রোজা ৯ তারিখ রাখা হবে নাকি সৌদির সাথে মিলিয়ে ৮ তারিখ রাখা হবে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে আধুনিক যামানাতে এসে। যদি আমরা ধরে নেই, ৮ তারিখ হলো আরাফার দিন, তাহলে সালাফের যুগ থেকে চলে আসা শতাব্দির পর শতাব্দি সৌদি থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের উম্মাহর আমল ভুল হওয়া অত্যাবশ্যক হয়। যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সর্বশেষ একটা প্রশ্ন থেকে যায়। তা হলো, আরাফার দিন দ্বারা যদি ৯ জিলহজ্ব উদ্দেশ্য হয় তাহলে এটাকে আরাফার দিন না বলে সরাসরি ৯ জিলহজ্ব বললেই তো হতো। এর উত্তর হলো, জিলহজ্ব মাসের ৮/৯/১০/১১/১২/১৩ এই দিনগুলোতে বিশেষভাবে হাজিদের কর্যাবলীর দিকে লক্ষ্য রেখে দিনগুলোর নাম রাখা হয়েছে। যথাঃ

৮ জিলহজ্ব হলো ইয়াওমুত তারবিয়া বা তারবিয়ার দিন

৯ জিলহজ্ব ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন

১০ জিলহজ্ব ইয়াওমুন নহর বা কুরবানির দিন

১১/১২/১৩ হলো আইয়ামুত তাশরীক বা তাশরীকের দিন

তো সৌদির ইয়াওমুন নাহর বা কুরবানির দিনসহ অন্য দিনগুলো যেমন আমাদের একদিন আগে, সেমভাবে সৌদির ইয়াওমু আরাফা আমাদের একদিন আগে হবে এটাই সাধারণ হিসাব।

৮/১০/১১/১২/১৩ দিনগুলোতে যেভাবে বুঝা হয়, ৯ তারিখকেও সেভাবে বিবেচনা করলে আর কোন প্রশ্ন থাকে না।

বিঃদ্রঃ ৯ জিলহজ্ব হিসেবে বাংলাদেশে আরাফার রোজা হবে রবিবার। তবে যেহেতু জিলহজের শুরুর দশক পুরোটাই ইবাদাতের তাই কেউ চাইলে শনিবার/রবিবার দুই দিনই রেখে দিতে পারেন। ইখতিলাফ থেকেও বাঁচা গেল, রোজাও বেশি রাখা হলো।

সংগৃহীত - হানফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে, আব্দুল্লাহ আল মাসউদ


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।