আরাফার রোজা কেন ৯ জিলহজ্ব?

আপলোড সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ০৮:০৫:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ০৮:০৮:১৩ অপরাহ্ন

আরাফার রোজা কবে সেটা নিয়ে মতানৈক্য আছে। আমি কেন ৯ জিলহজ্বকে অগ্রগণ্য মনে করি তার ৪টা কারণ তুলে ধরছি।

১. সর্বসম্মতিক্রমে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হয় মোট ৫ দিন। যা শুরু হয় আরাফার দিন ফজর থেকে, শেষ হয় কুরবানির ঈদের ৩য় দিন আসরের সময়ে। আলী রা. সহীহ সনদে এসেছে, তিনি আরাফার দিন ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্বের আসর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরিক পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা)

যদি আরাফার দিন মানে ধরা হয় যেদিন সৌদিতে হাজিরা আরাফার ময়দানে সমবেত হন, তাহলে যেসব দেশে সময়ের ব্যবধানের কারণে তারিখ ১দিন পিছিয়ে থাকে, তাদের তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে ৬ দিন। অর্থাৎ ৮ জিলহজ্ব থেকে ১৩ জিলহজ্ব। এটি সর্বসম্মতিক্রমে পরিত্যাজ্য।

২. আরাফার দিনের পরের দিনই হলো ঈদের দিন। মাঝে অন্য কোন দিনের ব্যবধান নেই। এটাই সালাফের যুগ থেকে চলে আসা সর্বসম্মত বিষয়। যদি আরাফার দিন মানে ধরা হয় যেদিন সৌদিতে হাজিরা আরাফার ময়দানে সমবেত হন, তাহলে যেসব দেশে সময়ের ব্যবধানের কারণে তারিখ ১দিন পিছিয়ে থাকে, তাদের আরাফার দিন ও ঈদের দিনের মাঝে বাড়তি একটা দিন থাকে। এটার কথা কোথাও নেই।

৩. আরাফার রোজা মানে যদি এটাই হয় যে, আরাফাতে হাজিরা সমবেত হওয়া শর্ত, (সেহিসেবে দূরবর্তী দেশগুলোতে যখন ৯ জিলহজ্ব আসে, তখন হাজিরা আর আরাফাতের ময়দানে থাকে না) তাহলে ইতিহাসে একাধিকবার এমন হয়েছে যে, দুর্যোগের কারণে হজ্বই হয়নি। সেই বছরগুলোতে যেহেতু হাজিরা আরাফাতে সমবেত হয়নি, তাই আরাফার দিনের ফজিলত কি নাই হয়ে গেছিল? মোটেও না। বরং হজ না হবার কারণে আরাফার ময়দানে কেউ হাজির না হলেও এই দিনের ফজিলত থাকবে। এর দ্বারাও বুঝে আসে, হাজিদের ময়দানে হাজির থাকা জরুরি কোন বিষয় নয়।

৪. সালাফের যুগ থেকে আরাফার দিন হিসাবে ৯ জিলহজ্বকেই ধরে আসা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা দূর-দূরান্তের খবর নিমিষেই জানার মাধ্যম আবিষ্কার হবার আগে ৯ জিলহজ্বেই আরাফার রোজা রাখা হতো। দূরবর্তী দেশগুলোতে আরাফার রোজা ৯ তারিখ রাখা হবে নাকি সৌদির সাথে মিলিয়ে ৮ তারিখ রাখা হবে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে আধুনিক যামানাতে এসে। যদি আমরা ধরে নেই, ৮ তারিখ হলো আরাফার দিন, তাহলে সালাফের যুগ থেকে চলে আসা শতাব্দির পর শতাব্দি সৌদি থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের উম্মাহর আমল ভুল হওয়া অত্যাবশ্যক হয়। যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সর্বশেষ একটা প্রশ্ন থেকে যায়। তা হলো, আরাফার দিন দ্বারা যদি ৯ জিলহজ্ব উদ্দেশ্য হয় তাহলে এটাকে আরাফার দিন না বলে সরাসরি ৯ জিলহজ্ব বললেই তো হতো। এর উত্তর হলো, জিলহজ্ব মাসের ৮/৯/১০/১১/১২/১৩ এই দিনগুলোতে বিশেষভাবে হাজিদের কর্যাবলীর দিকে লক্ষ্য রেখে দিনগুলোর নাম রাখা হয়েছে। যথাঃ

৮ জিলহজ্ব হলো ইয়াওমুত তারবিয়া বা তারবিয়ার দিন

৯ জিলহজ্ব ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন

১০ জিলহজ্ব ইয়াওমুন নহর বা কুরবানির দিন

১১/১২/১৩ হলো আইয়ামুত তাশরীক বা তাশরীকের দিন

তো সৌদির ইয়াওমুন নাহর বা কুরবানির দিনসহ অন্য দিনগুলো যেমন আমাদের একদিন আগে, সেমভাবে সৌদির ইয়াওমু আরাফা আমাদের একদিন আগে হবে এটাই সাধারণ হিসাব।

৮/১০/১১/১২/১৩ দিনগুলোতে যেভাবে বুঝা হয়, ৯ তারিখকেও সেভাবে বিবেচনা করলে আর কোন প্রশ্ন থাকে না।

বিঃদ্রঃ ৯ জিলহজ্ব হিসেবে বাংলাদেশে আরাফার রোজা হবে রবিবার। তবে যেহেতু জিলহজের শুরুর দশক পুরোটাই ইবাদাতের তাই কেউ চাইলে শনিবার/রবিবার দুই দিনই রেখে দিতে পারেন। ইখতিলাফ থেকেও বাঁচা গেল, রোজাও বেশি রাখা হলো।

সংগৃহীত - হানফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে, আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]