ঈদুল আজহা: কুরবানির তাৎপর্য, বিধান এবং পশু কেনার আগে যা জানা জরুরি
- আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১২:৪১:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১২:৪১:৪৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৯৮ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন। ঈদ আর মাত্র দুই দিন দূরে থাকায় সারা দেশের পশুর হাটগুলোতে এখন ক্রেতাদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। সঠিক পশু বেছে নেওয়া এবং কুরবানির বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা এই সময়ে বিশেষভাবে জরুরি।
কুরবানির ধর্মীয় ভিত্তি সুদৃঢ়। হজরত মিখজাফ ইবনে সালিম (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে বলেছেন, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা কর্তব্য। তবে যার সামর্থ্য নেই, তার ওপর এই দায়িত্ব নেই। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কুরবানির দিন পশু জবাইয়ের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয় অন্য কোনো আমল নেই এবং প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব পাওয়া যায়।
কুরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতি। আল্লাহর আদেশে প্রিয় সন্তানকে কুরবানি দিতে প্রস্তুত হওয়ার সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার স্মরণে কেয়ামত পর্যন্ত সব সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কুরবানি ওয়াজিব করা হয়েছে। অন্যদিকে সামর্থ্য থাকার পরও যে ব্যক্তি কুরবানি করে না, তার সম্পর্কে হাদিসে কঠোর নিন্দা এসেছে।
পশু কেনার ক্ষেত্রে শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কুরবানি জায়েজ। বয়সের দিক থেকে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছর, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে দুই বছর এবং উটের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা ছয় মাস বয়সেই যদি এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট দেখায়, তাহলে সেটি দিয়েও কুরবানি শুদ্ধ হবে।
পশু কেনার আগে সুস্থতার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে যাওয়া বা কুরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম পশু দিয়ে কুরবানি শুদ্ধ হবে না। একইভাবে যে পশুর একটি পা এমনভাবে নষ্ট যে চলার সময় কোনো কাজে আসে না, সেটি দিয়েও কুরবানি জায়েজ নয়। মোটা-তাজা ও সুস্থ-সবল পশু দিয়ে কুরবানি করা মুস্তাহাব।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।