সিনা আজোদি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ এই ধরনের ছোটখাটো সংঘর্ষ, ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনাবশত হামলা থেকেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও বড় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। আর তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ১৮ জুন যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এর ২০ দিনের মধ্যেই সেই চুক্তি বড় হুমকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার ইরানে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের এই আচরণ যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সামরিক এই জবাবের ঠিক আগেই মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করে দেয়। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল বিক্রির ছাড় বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর শর্ত ভেঙেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে মার্কিন প্রশাসনকে বিশ্বাস করা যায় না।
দুই দেশেই (যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) এই সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতাকারী রয়েছেন। ইরানের কিছু বিক্ষোভকারী শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করছেন কিছু রিপাবলিকান নেতা।
তবে সিনা আজোদি মনে করেন, অনেক কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করা গেলেও এই সমঝোতা স্মারকটি একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত ছিল। এটি সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করেছে, মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা এনেছিল। কিন্তু স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া কঠিন।
ডেস্ক রিপোর্ট