ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ , ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়: 'অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ' চালুর ঘোষণা মিরপুরের ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেভা ক্যাম্পের পিচ্চি রাজা: সোর্স থেকে মাদক কারবারের শীর্ষে এআই অসৎ লোকের হাতে পড়লে ১০০ কোটি মানুষের প্রাণ যেতে পারে: বিল গেটস জানুয়ারির অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাকৃবির ১০ তলা হলে লিফট নেই, না খেয়েই দিন কাটছে ছাত্রীদের র‌্যাবের পর এসআরবি, বদলেছে নাম ও আইনি কাঠামো তারেক রহমান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের সুপার এল নিনো কি, কিভাবে এটা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে? গাজায় ট্রাম্পের শান্তি দাবি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ম্যাক্রো তেল ও গ্যাস সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করতে রাজি আছে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দম্পতি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরাইল:শায়খ ইকরিমা সাবরি অপ্রতিম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন: আইফোন ছিনতাই ও পাঁচ হাজার টাকা অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার নয়াদিল্লির একাধিক স্কুলে ইমেইলে বোমা হামলার হুমকি: তল্লাশি অভিযান শুরু

মোবাইল সেবার প্রতি ১০০ টাকায় ৫৬ টাকাই নেয় সরকার, অতিরিক্ত করের চাপে কমছে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৩:৩৫:০৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৩:৩৫:০৭ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৪৯ বার পঠিত
মোবাইল সেবার প্রতি ১০০ টাকায় ৫৬ টাকাই নেয় সরকার, অতিরিক্ত করের চাপে কমছে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছবি: সংগৃহীত
মুঠোফোন সেবা থেকে দেশের মোবাইল অপারেটররা যে টাকা আয় করে, তার প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার বিভিন্ন কর ও ফি বাবদ নিয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগ খাতকে কেবলই রাজস্ব আয়ের একটি বড় উপায়ে পরিণত করেছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ। মোবাইল অপারেটরগুলো সরকারকে বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধের পর নিজেদের ন্যূনতম আয় ঠিক রাখতে গিয়ে সেবার মান উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করতে পারছে না। অতীতের সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে যথেষ্ট জোর না দিয়ে কর আদায়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

এমন এক নেতিবাচক প্রেক্ষাপটের মধ্যেই আজ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’।

মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে মুঠোফোন সেবায় ১৮ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয় সাধারণ গ্রাহককে। সব মিলিয়ে একজন গ্রাহকের ঘাড়ে মোট করভার দাঁড়ায় ৩9 শতাংশ। এছাড়া নতুন সিম কেনা অথবা হারিয়ে যাওয়া সিম তুলতে দিতে হয় ৩০০ টাকা। পাশাপাশি অপারেটরদের নিজস্ব মুনাফার ওপরে করের হার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ। দেশের মানুষের দৈনন্দিন নানা সেবা, ব্যবসা ও বিনোদনসহ সবকিছুর সঙ্গেই এখন মুঠোফোন সেবা গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে বেশ পিছিয়ে আছে। বিশ্লেষকেরা এ জন্য মূলত স্মার্টফোনের চড়া দাম ও মুঠোফোন সেবার বাড়তি মূল্যকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে অপারেটররা দায়ী করছে সরকারের উচ্চ কর ও ফির হারকে।

টেলিযোগাযোগ খাত থেকে সরকার মূলত দুভাবে রাজস্ব পায়; একটি হলো সরাসরি কর এবং অন্যটি তরঙ্গ বা স্পেকট্রামসহ বিভিন্ন ফি। অপারেটরগুলোকে নিয়মিত উচ্চমূল্যে তরঙ্গ কিনতে হয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে মোট আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে দিতে হয় আরও ১ শতাংশ। সব মিলিয়ে আয়ের ৫৬ শতাংশ চলে যায় সরকারের তহবিলে। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় মাত্র ২২ শতাংশ এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ২৫ শতাংশ।

দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা ও ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশে করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম জানান, অপারেটরদের ওপর কার্যকর করের চাপ দাঁড়ায় ৬৮ থেকে ৭২ শতাংশ, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করছে। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, তরঙ্গ নবায়নের উচ্চ ব্যয় অপারেটরদের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে।

জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, সিমের ওপর উচ্চ কর ও সেবার বাড়তি ব্যয়ের কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় গ্রাহক কমেছে প্রায় এক কোটি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ।

তবে করের এই বোঝা কিছুটা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো সব সমস্যা এই বাজেটে সমাধান করতে পারব না, তবে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের জন্য দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকারকে ডেটা ও ভয়েস সেবাকে সাশ্রয়ী করার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।