পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে গঠিত প্রতিরক্ষা জোটে তুরস্কের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠক ও আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা চুক্তি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, ‘যদি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস থাকে, তবে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো—নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে সব আঞ্চলিক দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিস্তৃত কাঠামো তৈরি করা, যা বৃহত্তর সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান–সৌদি ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ (এসডিএমএ)-এ যোগ দেওয়ার বিষয়ে তুরস্ক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অক্টোবর থেকে সৌদি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে আঙ্কারা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও বিশাল সামরিক বাহিনী, সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি এবং তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্প ও যুদ্ধ অভিজ্ঞতা একত্রিত হলে এটি একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে রূপ নিতে পারে।
আঙ্কারা-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক টিইপিএভি-এর কৌশলবিদ নিহাত আলী ওজকান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক এই জোটকে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবেও বিবেচনা করছে।
তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়, তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ডেস্ক রিপোর্ট