ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্লেষকরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গত কয়েক দিনে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো বিক্ষোভ হয়নি।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি আলজাজিরাকে বলেন, গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় তিনি কোনো বিক্ষোভ বা দাঙ্গার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের ব্যাখ্যায় অধ্যাপক ইজাদি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, তখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের ইন্টারনেট অবকাঠামো ব্যবহার করে যোগাযোগ ও অপারেশন পরিচালনা করেছিল।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তার দাবি, কিছু সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এবং দোকান খোলা রাখায় কয়েকজন ব্যবসায়ীও হামলার শিকার হয়েছেন।
তেহরানের এক বাসিন্দা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানান, শুক্রবার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সেদিন ব্যাপক জনসমাগম ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়ে আসে।
আরেকজন ইরানি সাংবাদিক বলেন, বর্তমানে রাস্তায় নামা মানে নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা।
আলজাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, বুধবার সকাল থেকে সরকারপন্থী সমাবেশ চোখে পড়লেও সরকারবিরোধী কোনো বিক্ষোভ দেখা যায়নি। তার মতে, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, তেহরানে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান সরকার। ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দোকানদার পেশার সোলতানিকে গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাত্র তিন দিনের বিচারে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট