যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ সালের জন্য দেশটির সামরিক ব্যয় এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে কংগ্রেস অনুমোদিত ২০২৫ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৯০১ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
বুধবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই বাজেট যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘ড্রিম মিলিটারি’ বা স্বপ্নের সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তিনি লেখেন, “এটি এমন একটি সামরিক শক্তি তৈরি করবে, যা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের প্রাপ্য এবং এটি আমাদের সব শত্রুর বিরুদ্ধে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে।”
পৃথক আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ঠিকাদার ও শেয়ারহোল্ডারদের সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ ও নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন না করলে তাদের অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ঘিরে রিপাবলিকান দলের একাংশের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অর্থায়নের উৎস ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান এবং রেথিয়নের শেয়ারের দাম পাঁচ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা এর আগেই সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকেই প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেটের অর্থ ‘সহজেই জোগাড় করা সম্ভব’।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল বাজেট বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের কয়েকটি উচ্চাভিলাষী সামরিক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গোল্ডেন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচি এবং নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ। বর্তমান বাজেট কাঠামোর মধ্যে এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তারা।
ডেস্ক রিপোর্ট