বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে আকস্মিক বোমা হামলা চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। মূলত মাদক পাচারের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতেই এই দুঃসাহসিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার কয়েক কিলোমিটার লম্বা মিছিলে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ‘নিকো, শক্ত থাকো, জনগণ জেগে উঠেছে’ এবং ‘ট্রাম্প, আমাদের নিকোকে ফিরিয়ে দাও’—এমন সব স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা ৫৮ বছর বয়সী নেত্রী ন্যান্সি রামোস অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, মাদুরো নির্দোষ এবং তাকে অন্য দেশে নিয়ে বিচার করার পরিকল্পনা তারা মেনে নেবেন না।
এদিকে, অভিযানে নিহতদের স্মরণে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো সারিবদ্ধ কফিনগুলো কাঁধে বহন করছেন সেনারা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ৫৫ জন ভেনেজুয়েলীয় ও কিউবান সেনা এবং একজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই শোকাবহ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি নিহতদের ‘প্রজাতন্ত্রের শহীদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ বিফলে যাবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো বর্তমানে নীরব রয়েছে। সেখানে জরুরি ডিক্রি জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের প্রশংসা করা বা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে কারাকাসসহ পুরো ভেনেজুয়েলায় নতুন করে মার্কিন হামলার আশঙ্কা ও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। (সূত্র: এএফপি)
ডেস্ক রিপোর্ট