গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ইতোমধ্যেই কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান বিক্ষোভ কেবল অর্থনৈতিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে মোড় নিয়েছে। সিনেটর গ্রাহাম এই পরিস্থিতিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের একটি ‘বড় মোড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘উদ্ধারে’ এগিয়ে আসতে দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ হিসেবে বর্ণনা করে তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন।
বিপরীতে, ওয়াশিংটনের এই অবস্থানকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘প্রতিরোধমূলক’ সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত এবং শত্রুর হাত কেটে ফেলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলক নমনীয় সুর বজায় রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে সাধারণ বিক্ষোভকারী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের মধ্যে পার্থক্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আন্দোলন আরও তীব্র করার ডাক দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরাসরি খামেনির মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর ইরানের ওপর মার্কিন চাপের এই নতুন মাত্রা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। (সূত্র: ফক্স নিউজ ও এএফপি)
ডেস্ক রিপোর্ট