অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও মিসর সীমান্তবর্তী রাফা সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপর নতুন শর্ত আরোপ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়ে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন—হামাসের হাতে বন্দি সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মি রান গভিলির দেহাবশেষ হস্তান্তর না করা পর্যন্ত রাফা সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলা হবে না।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান-১১ জানায়, রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর নেতানিয়াহু রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে এবার নতুন শর্ত আরোপ করলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য বহির্বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র সংযোগস্থল হলো রাফা সীমান্ত ক্রসিং। এই ক্রসিং দিয়েই গাজার মানুষ মিসরে প্রবেশ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে তৃতীয় দেশে যাওয়ার সুযোগ পেতেন।
২০২৪ সালের মে মাসে রাফা ক্রসিংয়ের গাজা অংশ দখল করে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজার একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েল। দখলের সময় ক্রসিংয়ের ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করা হয় এবং সব ধরনের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর পর থেকেই গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের অবস্থা আরও করুণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে বহু গাজাবাসী চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে মিসরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও ইসরায়েলি সেনাদের দখলের কারণে কেউই রাফা ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ বা বের হতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী রাফা ক্রসিং পুনরায় চালু করার কথা ছিল। তবে চুক্তি ভঙ্গ করে এখনো এই সীমান্ত ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ডেস্ক রিপোর্ট