গত সোমবার ডেনমার্কের সম্প্রচারমাধ্যম টিভি টু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে আর ‘ঠাট্টা’ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক কমান্ডো অভিযানের পর এই উদ্বেগ এখন বাস্তব আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, ‘২০ দিন পর আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কথা বলব।’ ট্রাম্পের এই রহস্যময় সময়সীমা এবং তার প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা কেটি মিলারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পতাকার রঙে রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করা—সব মিলিয়ে আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে ছেয়ে গেছে এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ডেনমার্কের একার পক্ষে অসম্ভব। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চান। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার সম্মিলিতভাবে এই হুমকির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ন্যাটোর অংশীদার হিসেবে গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রয়যোগ্য নয়। আর্কটিকের বিশাল খনিজ সম্পদ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের এই ‘অ্যানেক্সেশন’ বা সংযুক্তিকরণ পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা কেবল ইউরোপ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করবে। (সূত্র: পলিটিকো, এনবিসি নিউজ ও টিভি টু)
ডেস্ক রিপোর্ট