সিনেটর গ্রাহাম তার বক্তব্যে পরিষ্কার করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে যাচ্ছে কিউবার রাজনৈতিক পরিবর্তন। তার মতে, মাদুরোর পতন কেবল শুরু; এখন কিউবার জনগণকে তাদের বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি দিতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি আশা করি খুব দ্রুতই কিউবা স্বৈরশাসক মুক্ত হবে। কিউবাকে মুক্ত করো।” তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের কারণে সমগ্র লাতিন আমেরিকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রাহামের মুখে ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর উল্লেখ মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতিরই বহিঃপ্রকাশ, যা পশ্চিম গোলার্ধে অন্য কোনো শক্তির প্রভাব সহ্য না করার চূড়ান্ত বার্তা দিচ্ছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৮২৩ সালের ‘মনরো ডকট্রিন’ আমেরিকাকে পশ্চিম গোলার্ধের রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এখন গ্রাহাম ও ট্রাম্পের সমর্থকরা একে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা লাতিন আমেরিকায় মার্কিন বিরোধী শাসকদের উৎখাতের একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে কাজ করছে। গ্রাহামের এই প্রকাশ্য অবস্থানের পর কিউবা প্রশাসন এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ভেনেজুয়েলার পর কিউবা নিয়ে গ্রাহামের এই প্রকাশ্য উস্কানি ওই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনা করতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট