বিশ্বজুড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংবাদ প্রচার করা বিবিসির প্রবীণ সাংবাদিক জন সিম্পসন বলেছেন, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় ২০২৫ সালের মতো বিপজ্জনক বছর আর কখনো দেখেননি। তিনি মনে করেন, ইউক্রেন, গাজা ও সুদানের চলমান সংঘাত একযোগে বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যকে এমনভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
জন সিম্পসন বলেন, “আমি ১৯৬০-এর দশকের ভিয়েতনাম থেকে স্নায়ুযুদ্ধের পতন পর্যন্ত সাক্ষী ছিলাম—কিন্তু ২০২৫ সালের বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা একদম ভিন্ন মাত্রার।” তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ বছর শুধু তিনটি বড় যুদ্ধই নয়, বরং তার ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াগুলোও ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনে ১৪ হাজার বেসামরিক, গাজায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং সুদানের গৃহযুদ্ধে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, আর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
সিম্পসনের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন কেবল ভূখণ্ড নয়, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। “রাশিয়ার নৌ উপকূলে সমুদ্রতলের কেবল নিছক দুর্ঘটনায় কাটা পড়েনি, এটি পশ্চিমা বিশ্বের যোগাযোগব্যবস্থায় কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার অংশ,” তিনি বলেন। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে বহু সাইবার আক্রমণ ও নজরদারি অভিযানের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, চীন–তাইওয়ান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একঘরে নীতির ফলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক সংঘাত আরও জটিল হতে পারে। তাঁর ধারণা, ভবিষ্যতের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে ধীরে–ধীরে ছড়িয়ে পড়া এক বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা—যেখানে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূল ভূমিকা রাখবে। “এ যুদ্ধ হয়তো শুরু হবে না কোনো পরমাণু বোমা দিয়ে, বরং শেষ হতে পারে পরমাণবিক আতঙ্কে,” বলেন সিম্পসন।
ডেস্ক রিপোর্ট