ইউক্রেন যদি শান্তি আলোচনায় না আসে, তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাশিয়া নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করবে—এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সময়ে ইউক্রেন দাবি করছে, তারা যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী হলেও মস্কো সংঘাত চালিয়ে যেতে চায়।
শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টিএএসএস প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক পোশাক পরিহিত পুতিন রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে রুশ কমান্ডাররা জানান, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের দাবি করছে মস্কো। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডোনেটস্ক অঞ্চলের মিরনোহরাড, রডিনস্কে ও আর্টেমিভকা এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোল ও স্টেপনোহিরস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিরনোহরাড ও হুলিয়াইপোল এলাকায় পরিস্থিতি কঠিন হলেও সেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কমান্ড আরও জানায়, হুলিয়াইপোলে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং শহরের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে।
এদিকে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ শান্তির পক্ষে থাকলেও রাশিয়া সংঘাত অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে তিনি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে উভয় পক্ষের দাবি যাচাই করা কঠিন। কারণ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে প্রবেশাধিকার সীমিত, তথ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং ফ্রন্টলাইনের বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট