ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন-যুগে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩০ জন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ফেরত ডেকে আগামী জানুয়ারির মধ্যে তাদের মিশনে দায়িত্ব শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতি বেশি সমর্থনশীল কূটনীতিকদের বসানো।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ২৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানকে জানানো হয়েছে যে তাদের বর্তমান দায়িত্বের মেয়াদ জানুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ শেষ হবে। তাঁরা সবাই ক্যারিয়ার ফরেন সার্ভিস থেকে উঠে আসা পেশাদার কূটনীতিক, যারা বাইডেন প্রশাসনে নিযুক্ত হয়েও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে প্রথম দফা ‘ঝাড়াই-বাছাই’ থেকে বাদ পড়েছিলেন। তবে এবার ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তাঁরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে অন্য কোনো দপ্তরে বা দায়িত্বে পুনরায় নিয়োগ পেতে পারেন।
কোন কোন অঞ্চলে পরিবর্তন বেশি হয়েছে সে বিষয়ে খোলাখুলি তালিকা প্রকাশ না করলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আফ্রিকা মহাদেশ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে; অন্তত ১৩টি আফ্রিকান দেশে রাষ্ট্রদূত বদলের প্রক্রিয়া চলছে। এশিয়ার অন্তত ৬টি দেশেও বর্তমান রাষ্ট্রদূতদের দায়িত্ব শেষ করার নোটিশ গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফিজি, লাওস, মার্শাল আইল্যান্ডস, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, রাষ্ট্রদূত বদল ‘যেকোনো প্রশাসনের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’, কারণ রাষ্ট্রদূতরা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট যার ওপর আস্থা রাখেন, তাকেই এই পদে রাখার অধিকার তাঁর রয়েছে। তবে বহু কূটনীতিক ও কিছু আইনপ্রণেতা এটিকে অস্বাভাবিকভাবে ব্যাপক রদবদল হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পেশাদার কূটনীতিকদের নিরপেক্ষতা ও মার্কিন কূটনীতির ধারাবাহিকতার ওপর আঘাত হানতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট