ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন সকাল থেকেই ছাত্রী সংস্থার টেন্টে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা দিনব্যাপী আগতদের তথ্য, দিকনির্দেশনা, বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন। ক্যাম্পাসে এসে এমন সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সেবা গ্রহণকারী এক অভিভাবক জানান, ছাত্রী সংস্থার টেন্টে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এমন উদ্যোগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ব্যবহার প্রশংসনীয়। ভর্তিচ্ছুরা নির্দ্বিধায় এখান থেকে সেবা নিতে পারছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাবি শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে টেন্ট স্থাপন করে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে বিশেষত ছাত্রীদের জন্য জরুরি ওষুধ ও স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টোকেন পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাগ রাখার নিরাপদ সুবিধা, নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা সংরক্ষিত স্থান এবং আগ্রহীদের জন্য ইসলামিক বই সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এছাড়া, ২০২৬ সালের শুরুতেই শাখা ছাত্রী সংস্থার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা দেশের ছাত্রীদের নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের কমিটি রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংগঠনটির কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সংগঠনটি সারা দেশে নতুন উদ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে, যার ধারাবাহিকতায় এবার জাবিতে প্রকাশ্যে তাদের উপস্থিতি দেখা গেল।
ডেস্ক রিপোর্ট